
আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
বুধবার আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই না। আমরা চাই, তিনি আমাদের ছয় দফা দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না করে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করবেন।”
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি
- বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যেসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং পুনরায় পরীক্ষা দিতে চান, তাদের জন্য ঐচ্ছিকভাবে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দুই পরীক্ষার মধ্যে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, সেটিই চূড়ান্ত ফলাফলে গণনা করতে হবে।
- প্রশ্নপত্রে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।
- শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ কমাতে চলমান পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হবে এবং মূল্যায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রশ্নপত্রের ধরনে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
- পরীক্ষার হলে পরিদর্শকদের আচরণ পরীক্ষাবান্ধব হতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভয় বা মানসিক চাপে না ভোগেন।
- জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়।
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরীক্ষা শেষে উত্তরা, সায়েন্স ল্যাব ও সাভারে সড়ক অবরোধ করেন তারা। অন্যদিকে পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি দল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করে। বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৩ জুলাই ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি প্রশ্নে ভুল এবং শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ আরও বাড়ে।
এরপর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এছাড়া তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে যেসব পরীক্ষার্থী চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে একই বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার