
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাব-১১ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মো. সুজন।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, ফোরজিং হ্যামার, প্লায়ার্স, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতাররা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা রাতে যাত্রীদের টার্গেট করে অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত।
ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা বুলেট বৈরাগীকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে চলন্ত পথে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র্যাব তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১১।
তথ্যসূত্র: সময় নিউজ



