বগুড়ার যমুনা চরে মহিষের বাথান থেকে ৪ রাখাল অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ২০ লাখ টাকা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল থেকে মহিষের বাথানে কর্মরত চার রাখালকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর তাদের মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১২ জুন) সারিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী দল উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের বোহাইল চরের একটি মহিষের বাথানে হামলা চালায়। এ সময় রাখালরা রাতের খাবার শেষে বাথানের পাশে অস্থায়ী ছাউনিতে ঘুমিয়ে ছিলেন।
অপহরণকারীরা চার রাখালের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মুখ কাপড় দিয়ে চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে নেয়। পরে তারা নদীপথে পশ্চিম দিকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দিকে চলে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপহৃতরা হলেন- নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবারিয়া গ্রামের মৃত ইনছার মণ্ডলের ছেলে ইউনুস মণ্ডল (৫০), একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে মফের মণ্ডল (৪০), চকবাদিকুলপাড়া গ্রামের কুদ্দুস মণ্ডলের ছেলে মাসুদ মণ্ডল (৩২) এবং মাজেদ মণ্ডলের ছেলে ফারুক মণ্ডল (৪০)।
ঘটনার পর বাথানের রাখাল ও মামলার বাদী সোহেল রানা জানান, সেখানে প্রায় ১৬০টি মহিষ ছিল এবং গত নয় মাস ধরে আটজন রাখাল এসব মহিষের দেখভাল করছিলেন।
তিনি বলেন, অপহরণের পর ১২ জুন রাত প্রায় ১১টার দিকে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কলকারী নিজেকে অপহরণকারীদের পক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে চার রাখালের মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল ও নদীপথ হওয়ায় নৌ-পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশের একাধিক দল অপহৃতদের উদ্ধারে মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে চার রাখালের অপহরণের ঘটনায় নানা দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।