
সিনেম্যাটিক কোনো গল্পের মতোই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ার একটি কারাগারে। গলায় কাপড়ের বিশেষ কলার বানিয়ে তার ভেতরে বিপুল পরিমাণ মাদক বেঁধে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করছিল একটি বিড়াল! তবে শেষ রক্ষা হয়নি; সতর্ক ডিটেক্টিভ কুকুরের ক্ষিপ্রতায় কারা কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়েছে এই লোমশ ‘অপরাধী’।
ঘটনার নেপথ্যে যা ঘটেছিল
গত ২১ জুলাই পশ্চিম রাশিয়ার নিজনি নোভগোরোদের ‘সংশোধনাগার নম্বর ১৭’-এর বাইরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। কয়েদিদের কাছে অবৈধ মাদকের চালান পৌঁছে দিতে অপরাধী চক্র বিড়ালটিকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করছিল।
বিড়ালটি গোপনে কারাগারের সীমানা প্রাচীর পার হয়ে ভেতরে ঢোকার ঠিক আগের মুহূর্তে প্রবেশদ্বারে নিয়োজিত বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাদক শনাক্তকারী কুকুরগুলো (Service Dogs) বিড়ালটির উপস্থিতি ও অস্বাভাবিক গন্ধ টের পায়। কুকুরগুলোর সংকেত পেয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন এবং চটজলদি বিড়ালটিকে ধরে ফেলেন।
বিড়ালের গলায় ‘মাদক ভর্তি কলার’
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কর্মকর্তারা বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরে তার গলা থেকে কাপড়ের দুটি হাতে তৈরি বিশেষ কলার খুলে নিচ্ছেন। কলারগুলো খোলার পর তার ভেতর শক্ত করে প্যাকেটজাত করা বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

রাশিয়ার ‘ফেডারেল পেনটেনশিয়ারি সার্ভিস’ তাদের অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে:
“অপরাধীরা ১৭ নম্বর সংশোধনাগারে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বিড়াল ব্যবহার করেছিল। গোঁফওয়ালা বাহকটির গোপনে প্রবেশ করে কয়েদিদের কাছে অবৈধ প্যাকেটটি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সতর্ক কর্মকর্তা ও আমাদের ‘সিনোলজিস্ট’ দলের কারণে মাদক স্থানান্তরের এই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।”
বিড়ালের পরিণতি ও উদ্ধার হওয়া মাদক
বিড়ালটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে অভিযানের সময় সে কোনো আঘাত পায়নি। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাণীটিকে পাশের একটি নিরাপদ বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কৌতুক করে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিড়ালটি কোনো ক্ষতি ছাড়া অল্পের জন্য ‘কারাবাস’ থেকে বেঁচে গেল!
তবে উদ্ধারকৃত মাদকের সুনির্দিষ্ট ধরণ কিংবা এই অভিনব পাচার কৌশলের মূল হোতা কারা, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে এখনও কিছু প্রকাশ করেনি রুশ পুলিশ।
প্রথম নয় এমন ঘটনা
প্রাণীদের মাধ্যমে কারাগারে মাদক পাচারের চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। গত বছর কোস্টারিকাতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় একটি বিড়ালের গায়ে টেপ পেঁচিয়ে ২৩৫ গ্রাম গাঁজা এবং প্রায় ৭০ গ্রাম ক্র্যাক কোকেন বাঁধা অবস্থায় তাকে কারাফটকে ধরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও বন্দিদের কাছে মাদক পৌঁছে দিতে পাচারকারীদের এমন নতুন ও অদ্ভুত কৌশল ভাবিয়ে তুলছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন