
রিপন দাস, বগুড়াঃ
বগুড়ার এরুলিয়া বাজারে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসচাপায় সাত দিনমজুর নিহতের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ও পলাতক বাসচালক মোঃ নেছারুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দৌহপাড়া-সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার নেছারুল ইসলামকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নেছারুল ইসলাম বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার আগুনিয়াতাইড় গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
গত ৭ আগস্ট ভোরে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া বাজার এলাকায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি এসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি একটি মোটরসাইকেলকে এড়িয়ে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে বাসটি ঘুরে গিয়ে শ্রমিকদের ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের অধিকাংশই দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুর্ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে; র্যাবের মামলা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে আহতের সংখ্যা ১৪ জন বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক নেছারুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ৮ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় অজ্ঞাতনামা বাসচালককে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় পেনাল কোডের ৯৮/১০৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর থেকেই পলাতক চালককে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায় র্যাব-১২। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, নেছারুল ইসলাম গ্রেপ্তার এড়াতে শিবগঞ্জ উপজেলার দৌহপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন।
এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে দৌহপাড়া-সৈয়দপুর এলাকায় রশিদ নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। সেখান থেকেই মামলার প্রধান পলাতক আসামি নেছারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে বাসটির অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি সামনে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি হঠাৎ ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে এবং পরে রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ শ্রমিকদের চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে এরুলিয়া এলাকায় স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ সড়ক নিরাপত্তার দাবি জানান। পরে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেয় প্রশাসন।



