
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযানে ছিনতাইয়ের চেষ্টা ও হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিপিএসসি বগুড়া, এসআরবি-১২।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গাবতলী ও বগুড়া সদর উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, গাবতলী উপজেলার উজগ্রাম চৌধুরীপাড়ার মৃত আরিফুর রহমানের ছেলে মোঃ আসিফ চৌধুরী (২৬) এবং বগুড়া সদর উপজেলার নারুলী খন্দকারপাড়ার নেকমল হুদার ছেলে মোঃ নাহিন ওরফে নাইম (২৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোন কিনতে রংপুর থেকে বগুড়ায় আসেন এক ব্যক্তি। পরে আসামিরা মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা বলে তাকে অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে সারিয়াকান্দির কালিতলা ঘাট এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখান থেকে তাকে পারতিতপরল গ্রামের দিকে নেওয়া হয়। পরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি পথরোধ করে। এ সময় ওয়্যারলেস সদৃশ একটি সেট ও ধারালো চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বাদী ও তার সঙ্গীদের কাছ থেকে স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগীরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা সিএনজি ও চালককে আটক করতে পারলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি আসিফ চৌধুরী গাবতলীর উজগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে রোববার রাতে উজগ্রাম চৌধুরীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় সিএনজি স্ট্যান্ডের সভাপতি মোঃ মোকছেদুল হাসান (৩৮) হত্যা মামলায় পলাতক আসামি মোঃ নাহিন ওরফে নাইমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মাটিডালী উত্তরপাড়ায় একটি মোটরসের দোকানের সামনে বসে ছিলেন মোকছেদুল। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন একটি হাইস গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সেখানে আসে।
এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যদের হাতে হকিস্টিক, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে মোকছেদুলকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত মোকছেদুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের বলেন , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তে পাওয়া পলাতক আসামি নাইমের অবস্থান নারুলী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে রোববার রাতে নারুলী খন্দকারপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাক্রমে সারিয়াকান্দি ও বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



