
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও নজিরবিহীন এ উদ্যোগে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন, যা মোট বন্দির প্রায় ৭ শতাংশ।
কারাগারে থাকা নিবন্ধিত বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বন্দি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হওয়ায় ভোটে অংশ নেননি বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এনআইডি কার্ড না থাকা এবং জামিন পাওয়ার আশঙ্কা-এই দুই কারণে ভোটে অংশগ্রহণ কম হয়েছে।
ভোটগ্রহণের বিস্তারিত চিত্র
কারা অধিদপ্তর জানায়, ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন।
দিনভিত্তিক ভোটদানের সংখ্যা-
- ৩ ফেব্রুয়ারি: ১,৫২১ জন
- ৪ ফেব্রুয়ারি: ৯৮৮ জন
- ৫ ফেব্রুয়ারি: ১,১৩৮ জন
- ৬ ফেব্রুয়ারি: ৪২০ জন
- ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার): ৪৭১ জন
গতকাল ছিল ভোটগ্রহণের শেষ দিন। তবে নিবন্ধিত কিন্তু ভোট না দেওয়া অবশিষ্ট ১,৪০২ জন বন্দিকে সুযোগ দিতে এক দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। ফলে আজ রোববারও ভোটগ্রহণ চলবে।
নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের তথ্য
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ৬ হাজার ৩১৩ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেন। যাচাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাদ দিলে বৈধ নিবন্ধন দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৪০ জনে।
তিনি আরও জানান, ভোট দেওয়ার জন্য ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন-
- ২২ জন রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুসহ),
- ১১ জন সাবেক সচিব,
- ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা,
- ১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
তবে তারা ভোট দিয়েছেন কি না-সে তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।
গুজব নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, জুনাইদ আহমেদসহ অনেক ভিআইপি বন্দি ভোট দিয়েছেন বা নিবন্ধন করেছেন-এ তথ্য সত্য নয়।
তিনি বলেন, “তারা নিবন্ধনও করেননি। এসব তথ্য আমরা দিইনি।”
ভোটে সাড়া কম হওয়ার কারণ
কারা কর্তৃপক্ষের মতে, দুটি কারণে বন্দিদের অংশগ্রহণ কম হয়েছে-
- অনেক বন্দির কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তারা নিবন্ধন করতে পারেননি।
- কারাগারে ভোটের জন্য নিবন্ধন করলে বাইরে বের হলে পুনরায় ভোট দেওয়া যাবে না—এই আশঙ্কায় অনেকে নিবন্ধন করেননি। বিশেষ করে যাঁরা মনে করেছিলেন, ভোটের আগেই তারা জামিন পেতে পারেন।
নির্বাচন সামনে
নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বন্দিরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
তথ্যসূত্র: জনকণ্ঠ



