আন্তর্জাতিক খবর

ইসরায়েলের অস্ত্র মেলায় ইউরোপ-এশিয়ার ক্রেতাদের ভিড়, বিজ্ঞাপনে গাজা যুদ্ধের দৃশ্য

গাজায় চলমান সামরিক অভিযানকে প্রচার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে নজিরবিহীন আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তেল আবিবে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী ‘ইসরায়েল ডিফেন্স টেক উইক’ মেলায় ইউরোপ ও এশিয়ার অন্তত কয়েক ডজন দেশের সামরিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

তেল আবিব ইউনিভার্সিটি ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত প্রদর্শনীতে অংশ নেন দুই হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও সামরিক প্রতিনিধি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইভেন্টে দেখানো হয় এমন একটি ভিডিও-
যেখানে গাজার একটি ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ধ্বংসস্তূপে রূপ নেওয়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ, গাজা যুদ্ধেই ব্যবহার হওয়া অস্ত্রকে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রদর্শন করা হয়েছে প্রকাশ্যে।

গাজায় ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি হামলায় ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে- এমন দাবি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর। জাতিসংঘসহ বহু রাষ্ট্র এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করলেও সেই দেশগুলোর অনেকেই আবার ইসরায়েলের অস্ত্র কিনছে- যা আন্তর্জাতিক মহলে দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

মেলায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভারত,সিঙ্গাপুর,উজবেকিস্তান,যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি দল,নরওয়ের সরকারি কর্মকর্তা,বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্র

গাজা হামলার কারণে লন্ডনের বড় অস্ত্র প্রদর্শনীতে ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার। কিন্তু সমালোচনার মাঝেই তেল আবিবের মেলাতে হাজির হয়েছেন তাদের কূটনৈতিক কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলি ব্যাংক ও Caterpillar থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করলেও নরওয়ে প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এই প্রদর্শনীতে।

বিশ্বব্যাপী জনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে ঝুঁকলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কেনাকাটায় প্রভাব পড়েনি মোটেও।
২০২৪ সালে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি ছাড়িয়েছে ১৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার- যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর ৫৪% কিনেছে ইউরোপ, আর আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরকারী আরব দেশগুলোতে বিক্রি এক বছরে ৩% থেকে বেড়ে ১২% হয়েছে।

দেশচুক্তির পরিমাণউপকরণজার্মানি৪.৬ বিলিয়ন ডলারArrow-3 মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমরোমানিয়া২ বিলিয়ন ডলারএয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগ্রিস৭৫০ মিলিয়ন ডলার৩৬টি PULS রকেট আর্টিলারি সিস্টেম

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পূর্ব ইউরোপেও ইসরায়েলি অস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ বাজারে দেশটির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই বিশ্লেষকদের মত।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button