আন্তর্জাতিক খবর
প্রধান খবর

মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যু: ৭৮ বছর পরও ইতিহাসের রক্তাক্ত বিকেল

আজ থেকে ৭৮ বছর আগে, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি। সময় বিকেল ৫টা ৫ মিনিট। নতুন দিল্লির বিড়লা হাউসের প্রার্থনাসভায় যাওয়ার পথে পরপর তিনটি গুলিতে লুটিয়ে পড়েন ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। শেষ উচ্চারণ-“হে রাম”। নাথুরাম গডসের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় অহিংস আন্দোলনের প্রবর্তকের শরীর। সেদিন হিংসা জিতলেও, ইতিহাসে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় শান্তিই।

গান্ধী হত্যাকাণ্ড: ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১. হত্যাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা
গান্ধী হত্যার মূল অভিযুক্ত নাথুরাম বিনায়ক গডসে একা ছিলেন না। দীর্ঘ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন-নাথুরাম গডসে, গোপাল গডসে, নারায়ণ আপ্তে, মদন লাল পাহওয়া, দিগম্বর রামচন্দ্র ব্যাজ, শঙ্কর কিস্তাইয়া ও ডি. সাভারকর।

২. হত্যার স্থান ও মুহূর্ত
নতুন দিল্লির বিড়লা হাউসের প্রার্থনাস্থলে যাওয়ার পথে গান্ধীকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়।

৩. প্রথম গ্রেপ্তারকারী
নাথুরাম গডসেকে প্রথম ধরে ফেলেন হারবার্ট রেইনার জুনিয়র-তৎকালীন দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ভাইস কনসাল। সেনা আসা পর্যন্ত তিনি গডসেকে আটকে রাখেন।

৪. আগের ব্যর্থ হামলা
২০ জানুয়ারি ১৯৪৮-এ গান্ধীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। জনসভায় গ্রেনেড ছোড়া হলেও ভিড়ের কারণে তা ব্যর্থ হয়। ১০ দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় হামলায় সফল হয় ঘাতকরা।

৫. মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব
ভারত-পাকিস্তান বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে গান্ধীর সঙ্গে গডসের মতাদর্শিক বিরোধ চরমে ওঠে। গান্ধীর ‘মুসলিমপ্রীতি’ গডসেদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

৬. ব্যবহৃত অস্ত্র
গান্ধীকে হত্যা করা হয় একটি বেরেটা এম–১৯৩৪ পিস্তল দিয়ে, যা গডসে ও নারায়ণ আপ্তে কিনেছিলেন।

৭. প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
গান্ধীর ভাইঝি মনুবেন লেখেন, খাঁকি প্যান্ট পরা এক যুবক এগিয়ে এলে তিনি ভেবেছিলেন প্রণাম করতে এসেছে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তি গুলি চালায়।

৮. শেষ মুহূর্ত
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গান্ধী প্রায় ১০ মিনিট বেঁচে ছিলেন। কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। আভা বেনের কোলেই তাঁর দেহ নিথর হয়ে যায়।

৯. নাথুরাম গডসে কে ছিলেন
মহারাষ্ট্রের ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গডসের। হিন্দু মহাসভার সদস্য ছিলেন তিনি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করতেন।

১০. বিচার ও শাস্তি
গান্ধী হত্যার ২১ মাস পর, ১৯৪৯ সালের নভেম্বর মাসে নাথুরাম গডসেকে ফাঁসি দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছিল।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button