স্বাস্থ্য
প্রধান খবর

ঈদের মাংস খাওয়াতে শিশুদের জন্য বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ

ঈদের সময় ঘরে ঘরে মাংসের নানা আয়োজন থাকে। গরু কিংবা খাসির মাংস শিশুদের কাছেও বেশ পছন্দের। তবে গরমের এই সময়ে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকা জরুরি। কারণ, পরিমাণের অতিরিক্ত মাংস খেলে শিশুদের হজমের সমস্যা, পেটব্যথা, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ায় অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন-হাম ভালো হওয়ার পর শিশুকে কতটুকু মাংস খাওয়ানো নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নির্ভর করে শিশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং হজমশক্তির ওপর।

হাম সেরে যাওয়ার পর শিশুদের প্রথমে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। পরে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে হবে। এ সময় শিশুকে মাংস খাওয়ানো যাবে, তবে খুব অল্প পরিমাণে এবং খেয়াল রাখতে হবে সেটি ঠিকভাবে হজম হচ্ছে কি না। কারণ, মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয় প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সী শিশুদের জন্য মুরগি বা গরুর মাংস খুব নরম করে সেদ্ধ করে দুই থেকে তিন চা-চামচ পরিমাণ খাওয়ানো যেতে পারে। আর ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ গ্রাম মাংস যথেষ্ট।

এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ হতে হবে এবং মসলার ব্যবহার কম রাখতে হবে। চাইলে এর সঙ্গে বিভিন্ন সবজিও রান্না করা যেতে পারে।

মাংসের পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। যেমন-সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার। একই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে শিশুর হজমে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।

যদি মাংস খাওয়ার পর শিশুর পেটব্যথা, বমি বা পাতলা পায়খানা শুরু হয়, তাহলে কিছুদিনের জন্য মাংস খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আনন্দ মানেই অতিরিক্ত খাবার নয়; বরং স্বাস্থ্যকরভাবে ঈদ উদযাপন করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।

লেখক: ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অ্যান্ড ডায়েট কনসালট্যান্ট

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button