
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলো ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছে। উত্তর ক্যারোলিনাসহ বিভিন্ন এলাকায় এক ফুটেরও বেশি তুষারপাতের পর এখন বাসিন্দারা চরম শৈত্যপ্রবাহ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
উত্তর ক্যারোলিনার কান্নাপোলিসে রেকর্ড ১৪ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে। শার্লট ও গ্রিনভিলের মতো শহরগুলোতে ১১ ইঞ্চির বেশি তুষার জমেছে। শার্লট শহরের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ তুষারপাতের ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া ও ভার্জিনিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তীব্র শীত ও পিচ্ছিল সড়কের কারণে উত্তর ক্যারোলিনায় এক হাজারেরও বেশি যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটেছে। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর জোশ স্টেইন জানিয়েছেন, এসব দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাস্তাঘাট এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে ফ্লোরিডায়। সেখানে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ভেরো বিচ ও মেলবোর্নে তাপমাত্রা নেমে এসেছে যথাক্রমে ২৭ ও ২৬ ডিগ্রিতে, যা গত কয়েক দশকের ফেব্রুয়ারির সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ মাইল বেগে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নতুন সপ্তাহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে এবং বাতাসের গতি ধীরে ধীরে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ


