
সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ভুচিচ। এ সময় বাইরে জড়ো হওয়া তাঁর সমর্থকেরা নাম ধরে স্লোগান দেন। ভুচিচ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আগামীকাল সকালে পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করব।’
প্রায় দুই বছর ধরে সার্বিয়ায় সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের একটি ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এ আন্দোলন শুরু হয়। ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি দুর্নীতিকে দায়ী করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের শুরুতে দুর্ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হলেও পরে তা আগাম নির্বাচনের দাবিতে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আগাম নির্বাচন। ভুচিচ বারবার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও কোনো তারিখ ঘোষণা করেননি।
চলতি মাসের শুরুতে তিনি আগামী ২৫ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এ সময় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
২০০০ সালে আন্দোলনের মুখে যুগোস্লাভিয়ার শাসক স্লোবোদান মিলোসেভিচের সরকারের পতনের পর সার্বিয়ায় এত বড় বিক্ষোভ আর দেখা যায়নি। ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কখনো কখনো লাখো মানুষ অংশ নেন।
২০১৭ সালে প্রথমবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ভুচিচ। পরে ২০২২ সালের মে মাসে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। তবে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন ভুচিচ। আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে লড়তে আগ্রহী তিনি। ভুচিচ বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে, জনগণের একজন হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।’ দলের নেতা হিসেবে ডানপন্থী সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি।
পদত্যাগের কয়েক মিনিট আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রায় ৫০ জনকে ক্ষমা করেন ভুচিচ। তাঁদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও তাঁর দলের অনুগত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে ভুচিচ বলেন, ‘আমি ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের মধ্যে ২৩ জন গত দেড় বছরে আমরা যে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে গেছি, সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’
সার্বিয়ার আইন অনুযায়ী, এখন সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার



