
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুই দেশই হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। পঞ্চম বছরে গড়ানো যুদ্ধের মধ্যে উভয় পক্ষ হামলা আরও জোরদার করেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রুশ হামলায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি, জাপোরিঝিয়া ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। রাজধানী কিয়েভে হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এর আগের দিন রুশ হামলায় শহরটিতে সাতজন নিহত হয়েছিলেন।
শীত সামনে রেখে কিয়েভে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া প্রতিদিনই হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় হামলায় ক্রাসনোদার ও বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছেন। মস্কো-নিযুক্ত খেরসন অঞ্চলের প্রশাসনের প্রধান ভ্লাদিমির সালদো জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিমিয়ার কাছে আসকানিয়া-নোভা গ্রামের একটি ক্যাফেতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালায়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২২ ও ২০ বছর বয়সী দুই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই এলাকায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের সলোমিয়ানস্কি এলাকায় রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সোভিয়েত আমলের একটি আবাসিক ভবন পরিষ্কার করছিলেন বাসিন্দারা।
৪৩ বছর বয়সী ওলেক্সান্ডার গোরলাচভ জানান, শনিবার ভোরে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভিডিও কল পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফেরেন তিনি। হামলায় তাঁদের বাসা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর মায়ের সেলাই মেশিনও।
তবে পরিবারের সবাই বেঁচে থাকায় সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ বলে জানান গোরলাচভ। রুশ হামলা বাড়তে থাকায় পরিবারটি নিরন্তর চাপের মধ্যে থাকলেও কিয়েভ ছাড়ার পরিকল্পনা নেই তাঁদের।
এদিকে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের রুশ-নিযুক্ত কর্মকর্তা ইয়েভগেনি বালিতস্কি জানান, রাতের ইউক্রেনীয় হামলায় ওই অঞ্চলের রুশ-অধিকৃত অংশে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা হবে। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের কাছে যুদ্ধ বন্ধের সেই সম্ভাবনা এখনো দূরের বলে মনে হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন



