
স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় টলেডো প্রদেশে দুটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭৫ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভিইর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে টলেডো প্রদেশের উরদা ও লস ইয়েবেনেস এলাকার মধ্যবর্তী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার দিকে যাচ্ছিল। একই লাইনে চলার সময় একটি ট্রেন অপরটির পেছনে ধাক্কা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইরিও ট্রেনের দুটি বগি সম্পূর্ণ লাইনচ্যুত হয়ে পাশের দিকে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার ফুটেজে দেখা গেছে, লাইনচ্যুত একটি ট্রেনের অন্তত একটি বগি রেললাইনের উঁচু অংশে পড়ে রয়েছে। রেললাইনের নিচের বাঁধজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে মোচড়ানো ধাতব অংশ, ভাঙা প্যানেল ও বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ।
স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফে এবং বেসরকারি উচ্চগতির রেল অপারেটর ইরিওর দুটি ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন করতে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দ্রুতগতির রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। সেখানে একাধিক দমকলকর্মী, তিনটি হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত মোবাইল মেডিকেল ইউনিটসহ উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘টোলেডোর ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। আমি পরিবহনমন্ত্রী এবং কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। জরুরি পরিষেবাগুলো প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও স্পেনের আদামুজ এলাকায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার নয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে আবারও বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। জানুয়ারির দুর্ঘটনাটি ছিল স্পেনের দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে ঘটে যাওয়া প্রথম বড় ধরনের সংঘর্ষ।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি



