প্রায় ৩ হাজার বছরের পুরানো মদের কারখানার সন্ধান

ইরাকের দোহুক শহরে দুই হাজার সাতশো বছর আগের একটি মদ তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক। কারখানাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম পুরানো ও অ্যাসিরিয়ান আমলের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মদের এই কারখানাটি নিয়ে এরইমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এটিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতির দাবি প্রত্নতাত্ত্বিকদের। উঁচু পাহাড়ের মত পাথরের তৈরি একটি ভবন।
ছোট ছোট জানালা। দেয়ালের গা জুড়ে কোথাও কোথাও পুরানো কারুকার্যের ছাপ চোখে পড়ার মতো। ভবনটির এদিক-ওদিক বেসিনের মত দেখতে ছোট-বড় গর্ত।
দেখে মনে হতে পারে এটি বেশ পুরানো কোনো বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। না। এটি প্রায় তিন হাজার বছরের পুরানো একটি মদ তৈরির কারখানা ইরাকের দোহুক শহরের কাছে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় এই মদ তৈরির কারখানাটির সন্ধান পেয়েছে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক।
উত্তর মেসোপটেমিয়া যা আজকে ইরাক নামে বেশি পরিচিত। ইতালির উদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইরাকের দোহুক শহরের পুরাতত্ত্ববিদরা যৌথভাবে এটি আবিষ্কার করেন।
পুরানো এই কারখানাটিকে সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থান হিসেবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দোহুকের প্রধান পুরাতত্ত্ববিদ বাইকাজ গামাল এলডিন বলেন, আমাদের বিশ্বাস, ওয়াইন তৈরির এই কারখানাটি উত্তর মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের প্রথম এবং মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারখানা। কারাখানার এই এলাকাটিকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করা দরকার।
বলা হচ্ছে, মদের এই কারখানাটি তৈরি হয়েছে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে। পৃথিবীর অন্যতম পুরানো অ্যাসিরিয়ান সভ্যতার সময়কালে। সেই সময় অ্যাসিরিয়ান সাম্রাজ্যের ব্যাপক আধিপত্য ছিল।
সমাজের বিত্তশালী ও আইনি পেশার মানুষদের মধ্যে মদ খাওয়ার প্রচলন ছিল। এমনকি মদ উৎপাদনও করা হতো। তারই নিদর্শন এই কারখানা।
এরইমধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিকদের ওই দলটি বিশ্ব ঐতিহ্যের পুরানো তালিকায় স্থানটির নাম যুক্ত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন।