লাইফস্টাইল

শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা করবেন

শীতের আগমনে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন ধরনের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় সুস্থ থাকতে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার যত্ন নেওয়া জরুরি। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ানো যায়।

সুষম খাবার খান

রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ ও বাদাম থেকে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও প্রোটিন পেতে পারে। কমলা, পেয়ারা, আমলকী ও লেবুর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বেড়ে যায়, এমন ধারণা ঠিক নয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত পানি পান করুন। পাশাপাশি স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। শরীরের চাহিদা, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

ঘুমের ঘাটতি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন সাধারণত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

শীতের সকালে বা বিকেলে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম কিংবা ঘরে শরীরচর্চা করতে পারেন। নিয়মিত মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। তবে অসুস্থ বোধ করলে অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন। অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কমানো এবং ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করাও উপকারী।

শরীর গরম রাখুন

শীতের তীব্রতা অনুযায়ী উপযুক্ত গরম পোশাক পরুন। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নিন। তবে ঠান্ডা আবহাওয়ায় থাকলেই সরাসরি সর্দি-কাশি হয়, এমন নয়; এসব অসুখের পেছনে সাধারণত ভাইরাসসহ বিভিন্ন জীবাণু দায়ী।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন

ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই ধূমপান থেকে দূরে থাকুন। পাশাপাশি অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীয় টিকা নিন

বয়স, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করুন। টিকা নির্দিষ্ট কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি ও গুরুতর অসুস্থতার সম্ভাবনা কমাতে সহায়তা করে।

অকারণে ভিটামিন বা অ্যান্টিবায়োটিক নয়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আশায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি-কাশিতে কাজ করে না। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।

শীতে সুস্থ থাকতে কোনো একক উপায়ের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, টিকাদান ও পরিচ্ছন্নতার সমন্বিত অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী কিংবা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button