
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার অবিচল ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আজ দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। জাতি আজ এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।”
তিনি বলেন, এই গভীর শোকের মুহূর্তে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অগণিত কর্মী-সমর্থকের প্রতি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি সবাইকে এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি দান করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অসামান্য ভূমিকা ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।”
স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার আপসহীন ভূমিকার কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে এবং মুক্তির প্রেরণা যুগিয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
খালেদা জিয়ার শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তার অবিচল ভূমিকা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন একজন মহান, দূরদর্শী ও নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হবার নয়।”
ভাষণের শেষাংশে জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“জাতির এই কঠিন সময়ে আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকি। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাই এ মুহূর্তে আমাদের সবার কর্তব্য।”



