
বাজারে আসল নোটের সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরির বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুদ্রা ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করে এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে আসল নোটের ডিজাইন ও আকারের অনুকরণে তৈরি ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভিন্ন কনটেন্ট ও মার্কেটিং প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কখনো আসল নোটের চেয়ে বড় আকারের কাগজ ব্যবহার করেও ব্যবসায়িক প্রচারণা করা হচ্ছে।
আইনি অবস্থান কী?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে-
- প্রচলিত ব্যাংক নোটের সদৃশ কাগজ বা বস্তু তৈরি, ব্যবহার, বিতরণ বা প্রচারণায় ব্যবহার করা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৮৯(৩) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
- ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩–এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাজারে জাল নোটের বিস্তারকে উৎসাহিত করতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনসাধারণের প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে জাল নোট প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিভ্রান্তিকর ভিডিও বা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম জানান, এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়েছে-
“আসল নোট চিনুন, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করুন।”
তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা



