আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছিলেন একজন স্বপ্নবাজ লেখক। বাস্তবতার নিপুণ চিত্রণ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক জ্ঞান, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সূক্ষ্ম কৌতুকবোধ তাঁর রচনাকে দিয়েছে ব্যতিক্রমী সুষমা। তাঁর ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাস ও ‘কান্না’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। হয়েছে নন্দিত ও আলোচিত। বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র পরেই তিনি সর্বাধিক প্রশংসিত বাংলাদেশি লেখক।
আজ ৪ জানুয়ারি কীর্তিমান এই কথা সাহিত্যিকের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। পৈতৃক বাড়ি বগুড়া জেলায় হলেও ১৯৯৭ সালের এই দিনে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্ম লাভ করেন।
আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস হিসেবে তিনি পরিচিত হলেও তাঁর ডাক নাম মঞ্জু এবং পুরো নাম আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস। বাবা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৭-১৯৫৩) এবং মুসলিম লীগে পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। মায়ের নাম বেগম মরিয়ম ইলিয়াস। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন।
চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) এবং খোয়াবনামা (১৯৯৬) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপন্যাস। পাশাপাশি গোটা পাঁচেক গল্পগ্রন্থ আর একটি প্রবন্ধ সংকলন নিয়ে তাঁর দাপুটে রচনাসম্ভার। গুণী এই লেখকের ছোট গল্প সংকলনের মধ্যে ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’ (১৯৭৬), ‘খোঁয়ারি’ (১৯৮২) ‘দুধভাতে উৎপাত’ (১৯৮৫), ‘দোজখের ওম’ (১৯৮৯) উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রবন্ধ সংকলনের নাম সংস্কৃতির ‘ভাঙ্গা সেতু’ (২২টি প্রবন্ধ)।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কর্মজীবন শুরু হয় জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক পদে যোগদানের মাধ্যমে। এরপর তিনি মিউজিক কলেজের উপাধ্যক্ষ, প্রাইমারি শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক, ঢাকা কলেজের বাংলার প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেন আখতারুজ্জামান এবং গোপনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তাঁর লেখা প্রতিশোধ, অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, মিলির হাতে স্টেনগান, অপঘাত, জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল, রেইনকোট প্রভৃতি গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতা।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বলেছেন, ‘কী পশ্চিম বাংলা কী বাংলাদেশ সবটা মেলালে তিনি শ্রেষ্ঠ লেখক।’ লিখেছেন, ‘ইলিয়াস-এর পায়ের নখের তুল্য কিছু লিখতে পারলে আমি ধন্য হতাম।’
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৯৬ সালে আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তাঁর ২৪তম প্রয়াণ দিবসে নিউজজি২৪ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে গুণী এই লেখকের কর্মমুখর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।



