শঙ্কামুক্ত ওবায়দুল কাদের

হাসপাতালে ভর্তি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শরফুদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিশ্রাম দরকার, তাই চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করে কেবিনে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে ওবায়দুল কাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিকালে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য শারফুদ্দিন।
৬৯ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্রনিক সমস্যায় ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৯ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার হৃদপিণ্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে।
এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। পরে তাকে সিঙ্গাপুরে থেকে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা নিতে হয়।
ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কয়েক দিন ধরে পায়ে পানি জমছিল তার, কিছুটা শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল।
এরপর মঙ্গলবার সকালে ‘রুটিন চেকআপের’ জন্য তিনি গিয়েছিলেন বিএসএমএমইউতে, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
ডা. শরফুদ্দিন বলেন, “আমাদের এখানে প্রায়ই চেকআপে আসেন তিনি। আজকেও এসেছিলেন। এ সময় আমাদের ১০ জনের বিশেষজ্ঞের একটি দল ওনার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
“তারা বলেছেন,উনি এত বেশি পরিশ্রম করেছেন, তাই উনার একটু বিশ্রাম নেওয়া দরকার।”
মন্ত্রীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটু আগে দেখে এসেছি, উনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৯, পালস রেট ৭৩। তার মানে সবকিছু স্বাভাবিক। বয়সের কারণে তার ডায়াবেটিসসহ উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। ওষুধে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন, উনি শঙ্কামুক্ত।”
ডা. শরফুদ্দিন বলেন, “আমরা উনার করোনাভাইরাসজনিত কোনো সমস্যা পাইনি। তবে করোনাভাইরাস যেহেতু আছে, তাই উনার কাছে কেউ যাতে না আসে, সেজন্য আমরা সব সংরক্ষিত করে দিয়েছি।”
শ্বাসকষ্ট আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বয়সে হাঁটলে অনেকের এমন হয়। তবে সেটা বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে।”
ফুসফুসে সংক্রমণ আছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ জাতীয় কিছু থাকলেও থাকতে পারে। সেটার জন্য আমরা সংক্রমণের ওষুধ দেব। এটা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, দুশ্চিন্তার কিছু নাই।”
ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে জানিয়ে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, বুধবার সকালে মেডিকেল বোর্ড তাকে পুনরায় দেখবেন। তখন পরবর্তী ‘আপডেট’ জানানো হবে।
“উনার লাংসে পানি আছে কি না, সেটা আগামীকাল বোর্ডের পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারব। এখনও আমরা এই বিষয়টি জানতে পারেনি। এক্স-রে ও সিটিস্ক্যান করে জানতে পারব।”
অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন প্রো ভিসি এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ডা. আবু নাছের রিজভী, ডা. ফজলুর রহমান, ডা. আতিকুর রহমান, ডা. ফরিদ আহমেদ, ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. আরাফাত ও ডা. জাহিদ হোসেন।
বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিয়ে ওবায়দুল কাদের সন্তুষ্ট জানিয়ে ডা. শরফুদ্দিন বলেন, “চিকিৎসার জন্য উনি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য একটুও লালায়িত নন। এ বিষয়টি আমাদেরকে বিস্মিত করেছে। বিশেষজ্ঞ হিসাবে আমরা যে সবাইকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম তার প্রমাণও উনি রাখলেন।”
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে গিয়ে ‘অহেতুক ভিড়’ না করতে নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।



