জাতীয়প্রধান খবর

বন্যায় দুই জনের প্রাণহানি, স্রোতে ভেসে গেছে এক শিক্ষার্থী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

বন্যায় দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী স্রোতে ভেসে গেছে আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরো জানান, সিলেট জেলার ৬০ শতাংশ এবং সুনামগঞ্জের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্যা কবলিতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস স্পিড বোট নিয়ে উদ্ধার কাজ করছে।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে আমরা যে বার্তা পেয়েছি সেখানে বলা হয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার থেকে পানি কমতে থাকবে এবং টানা তিনদিন কমবে। এ সময় উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিন্তু দক্ষিণাঞ্চল বা ভাটির দিকে অবনতি হবে। আরও নতুন করে যে জেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো হলো— রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারি, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর, জামালপুর, মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ। এখন ১২টি জেলা বন্যা কবলিত। প্রায় ৭০টি উপজেলায় বন্যা রয়েছে। এটা বাড়ছে।

ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই জেলায় গতকাল পর্যন্ত আমরা একেকটি জেলায় ৮০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম, আজ আরও ৫০ লাখ করে দিয়েছি। মোট এক কোটি ৩০ করে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা দুটি জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যে জেলাগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে সেগুলোতে আমরা ১০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিকটন চাল আর চার হাজার প্যাকেট করে শুকনা খাবার আমরা এরই মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এনামুর রহমান বলেন, আবহাওয়া আধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আগেই বলেছিলে, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। কিন্তু এত বৃষ্টি হবে এটা পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। ১৫ থেকে ১৭ জুন এই তিনদিনে ২৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এত বৃষ্টি পৃথিবীর কোথাও হয়েছে এমন রেকর্ড নেই।

এসএ

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button