
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে। এটি দেশের ৫৪তম বাজেট হলেও বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
আজ সোমবার (২ জুন) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বিশেষ উপদেষ্টা সভায় এই বাজেট অনুমোদন পায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বাজেটের সারসংক্ষেপ:
মোট ব্যয়: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা
মূল লক্ষ্য: মূল্যস্ফীতি রোধ, শিল্পে প্রণোদনা, কৃষিতে স্বস্তি, আমদানি খাতে ছাড়
আগের বছরের তুলনায় বাজেটের আকার কিছুটা কমানো হয়েছে
.যেসব খাতে দাম কমবে:
.পেট্রোলিয়াম ও চিনি
অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং ট্যারিফ মূল্য বাতিলের প্রস্তাব থাকায় এই পণ্যের দাম কমবে। একইসঙ্গে চিনির আমদানিতেও শুল্ক ছাড়ের কারণে বাজারে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিল্পখাত
কাগজ, ছাপাখানা, ওষুধ, ট্যানারি, নিউজপ্রিন্ট, ব্রেক প্যাডসহ বহু শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব এসেছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং দামও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঔষধ শিল্প
ক্যানসার প্রতিরোধক ওষুধসহ ওষুধশিল্পের কাঁচামালে শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়ায় অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমে আসবে।
কৃষি
কৃষিযন্ত্র, কীটনাশক, ফল ব্যাগসহ কৃষি উপকরণে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের খরচ কমবে এবং পণ্যের দামেও স্বস্তি আসবে।
পরিবহণ খাত
১৬-৪০ আসনের বাস এবং ১০-১৫ আসনের মাইক্রোবাসের আমদানিতে শুল্ক ছাড়, পাশাপাশি টায়ার তৈরির কাঁচামালেও কর হ্রাস — যার ফলে পরিবহণ ব্যয় হ্রাস পাবে।
বন্ড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন:
নতুনভাবে সেন্ট্রাল ও ফ্রি জোন বন্ডেড ওয়্যারহাউস চালু হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি বন্ড সুবিধা দেওয়ার জন্য সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বন্ডিং ক্যাপাসিটিও বাড়ানো হয়েছে।
শুল্ক-কর ফাঁকিতে নমনীয়তা:
শুল্ক ফাঁকি সংক্রান্ত মামলায় জরিমানার সীমা ২ হাজার → ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিলম্বে কর পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদের হার হালনাগাদ করা হয়েছে।
প্রবাসীদের উপহার সামগ্রীসহ আমদানিতে আরও স্বস্তি।
স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিশু কল্যাণ:
৫০ শয্যার বেশি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়।পরিবেশবান্ধব ই-বাইক উৎপাদনে প্রণোদনা।
থিম পার্ক ও অ্যামিউজমেন্ট পার্কে শিল্পবান্ধব নীতি
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট মূলত ব্যয় সংকোচনের পরিবর্তে বুদ্ধিদীপ্ত ছাড় ও প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গা করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনীতি পরিবর্তনের পর এমন একটি বাজেট অস্থির বাজারে স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



