
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে, জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে, যাতে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। বুধবার মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের পর তিনি এই কথা বলেন।
কুয়ালালামপুরের ইউকেএম বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, নেগেরি সেমবিলান দারুল খুসুস রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরর কাছ থেকে ড. ইউনূস এই সম্মাননা গ্রহণ করেন। সামাজিক ব্যবসা প্রসারে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই ডিগ্রি দেওয়া হয়।
ড. ইউনূস বলেন, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি, যেখানে শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়সংগত, অর্থনীতি হবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রত্যেকে সমান সুযোগ পাবে।” তিনি আরও বলেন যে, নতুন সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, তারা আগামী দিনের নির্মাতা এবং তাদের ভাবনা, সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, “প্রকৃত সাফল্য শুধু নিজের জন্য অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কীভাবে তুমি অন্যদেরও তোমার সঙ্গে উন্নতির পথে নিয়ে যাচ্ছ, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি তাদের বড় স্বপ্ন দেখতে, সাহসী চিন্তা করতে এবং ব্যর্থতাকে সাফল্যের একটি ধাপ হিসেবে মনে করার আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস বলেন, “আজকের অন্যতম বড় বিপদ হলো—সম্পদ ক্রমশ কয়েকজন মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এর ফলে বৈষম্য ও অবিচার সৃষ্টি হয়।” এর সমাধানে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির ওপর জোর দেন, যেখানে সম্পদ ন্যায্যভাবে ভাগ হবে এবং সবাই মর্যাদা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাবে। গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পেছনের ভাবনা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ প্রতিভার অভাবে নয়, বরং ব্যবস্থা তাদের সুযোগ না দেওয়ায় দরিদ্র থাকে।
ড. ইউনূস বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশ বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে। তিনি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।



