আজ খিটখিটে মেজাজিদের দিন, হঠাৎ মেজাজ খারাপ হলে যা করবেন

সব সময় হাসিখুশি থাকা সম্ভব নয়। কাজের চাপ, ক্লান্তি কিংবা দৈনন্দিন নানা ঝামেলায় কখনো সামান্য কারণেও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। পরিচিত মানুষের সাধারণ কথাতেও বিরক্তি আসে। এমন অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘খিটখিটে মেজাজ দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’।
দিবসটি মূলত মজার ছলে পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য বদমেজাজি আচরণকে উৎসাহিত করা নয়; বরং রাগ, বিরক্তি ও মন খারাপের মতো স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোকে হাস্যরসের মাধ্যমে গ্রহণ করতে শেখানো।
যেভাবে শুরু খিটখিটে মেজাজ দিবসের
প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে ‘চেজেস ক্যালেন্ডার অব ইভেন্টস’-এর প্রকাশক বিল ও হেলেন চেজ তাদের নাতনি মনিকার কাছ থেকে দিবসটি পালনের ধারণা পান।
মিশিগানের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকার এক শিক্ষক ছিলেন খিটখিটে স্বভাবের। ওই শিক্ষকের জন্মদিন ছিল ১৫ অক্টোবর। বন্ধুদের সঙ্গে মজার ছলে দিনটিকে খিটখিটে মেজাজ দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে মনিকা। পরে সেই ভাবনা জনপ্রিয়তা পায়।
দিবসটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সেসামি স্ট্রিট’-এর চরিত্র অস্কার দ্য গ্রাউচ। গোমড়ামুখো স্বভাব ও অভিযোগ করার অভ্যাসের জন্য পরিচিত এই চরিত্রটি খিটখিটে মেজাজের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কেন হঠাৎ মেজাজ খিটখিটে হয়?
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত কাজের চাপ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা কিংবা শারীরিক ক্লান্তি মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া দুশ্চিন্তা, পারিবারিক অশান্তি, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও দীর্ঘদিনের হতাশা থেকেও বিরক্তি তৈরি হতে পারে।
খিটখিটে মেজাজ সামলাবেন যেভাবে
মেজাজ খারাপ হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া ভালো। ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো খাবার খাওয়া, পানি পান ও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক। কোন পরিস্থিতিতে বেশি বিরক্তি তৈরি হচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করাও জরুরি। দীর্ঘদিন মেজাজের পরিবর্তন চলতে থাকলে কিংবা দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেললে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যেভাবে কাটাবেন দিনটি
খিটখিটে মেজাজ দিবস উদ্যাপনে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের সঙ্গে মজার গল্প, নিজের বদমেজাজি মুহূর্ত নিয়ে হাসাহাসি কিংবা পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটিয়েই দিনটি উদ্যাপন করা যায়। তবে মজা করতে গিয়ে কাউকে অপমান করা উচিত নয়।
দিনটি মনে করিয়ে দেয়, সব সময় ভালো মেজাজে থাকা সম্ভব নয়। রাগ, বিরক্তি কিংবা মন খারাপ জীবনেরই অংশ। তাই জোর করে হাসিমুখে থাকার পরিবর্তে নিজের অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ, মেজাজ খারাপ হওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু সেই মেজাজের কারণে অন্যকে কষ্ট দেওয়া নয়।


