অন্যান্য

হেমন্তে ছাতিম ফুলের মিষ্টি সুবাসে মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা


ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন হেমন্তকাল। এ ঋতুতে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে ছাতিম ফুলের তীব্র অথচ মিষ্টি ঘ্রাণ। গাছের ডালে ডালে ফোটা অসংখ্য ছোট ছোট ফুলের সুবাস জানান দেয় ছাতিম ফুলের মৌসুমের আগমনী বার্তা। বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় ছাতিম ফুল স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।


হেমন্তের এই আবহে একটি ছাতিমগাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে ফুলের সুবাস আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীরা। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে ছাতিম একটি পরিচিত নাম। অনেকের কাছে এটি হেমন্তের দূত হিসেবেও পরিচিত।


কথিত আছে, শান্তিনিকেতনে ছাতিমগাছের নিচে বসে নিয়মিত লেখালেখি ও পাঠদান করতেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ছাতিমপাতা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্যও রয়েছে।


ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম Alstonia scholaris। এটি অ্যাপোসাইনেসি পরিবারের একটি চিরসবুজ ও বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ। সংস্কৃত ভাষায় একে সপ্তপর্ণী বা যোজনগন্ধা বলা হয়। গাছটির পাতাগুলো সাধারণত শাখার আগায় চক্রাকারে সাজানো থাকে। ছাতিম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বৃক্ষ।


একটি ছাতিমগাছ প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গাছের শাখার আগায় থোকায় থোকায় ফোটে ছোট ছোট সবুজাভ সাদা ফুল। ফুলের তীব্র সুগন্ধই ছাতিমগাছকে অন্য গাছের তুলনায় স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।


ছাতিমগাছের বিভিন্ন অংশ ঐতিহ্যগতভাবে ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর কষ ও বাকল লোকজ চিকিৎসায় ক্ষত, আমাশয়, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে এসব ব্যবহারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত নয়।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button