প্রথম আলো–ডেইলি স্টার ইস্যুতে সরকারের ভেতরের অংশ জড়িত: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ ও মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) এর উদ্যোগে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদ সভার তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
“আমাদের স্লোগানগুলো ব্যবহার করে তারা সেখানে আক্রমণ করেছে এবং সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। এই ঘটনার পরে আমরা বলেছি যে, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে,” বলেছেন মি. ইসলাম।
অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন নাহিদ ইসলাম। পরে পদত্যাগ করে এনসিপি গঠন করেছেন তিনি।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা এক সাথে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না।’
নাহিদ ইসলামের মতে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল।
“শরিফ ওসমান হাদি তার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে এবং হওয়ার পরে কী কী ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা চক্রান্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে।… আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার পেছনে দায় আছে। আমাদের অনেক বেশি দায় আছে, যারা আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনা যারা সেই রাতে ঘটিয়েছে, এটা খুবই স্পষ্ট যে, কারা সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। কারা সেই রাতে সেখানে গিয়েছে। লেখালেখি করেছে। আমার মনে হয় যে, সেটা সরকারের উচিত হবে…আমাদের সবাই মিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সেই রাতে এই ঘটনা ঘটার পরে আমাদের কাছে আরও মনে হয়েছে যে, ঢাকা শহরে ৫০০ মানুষ নাই যে, সেখানে ওই বিল্ডিং দুইটার সামনে গিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করতে পারে–এটা আমাদের জন্য আরও দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়েছে।’
(নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে নেওয়া)
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি



