
হেপাটাইটিস হলো যকৃতের (লিভার) প্রদাহজনিত একটি রোগ, যা প্রধানত ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই-এই পাঁচ ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ, কারণ এগুলো দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। ফলে রোগটি নীরবে জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর লাখো মানুষ ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত জটিলতায় প্রাণ হারান। অথচ সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, টিকাদান, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে এই রোগের বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেপাটাইটিস বি-এর কার্যকর টিকা রয়েছে, যা নবজাতক থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি-এর জন্য বর্তমানে অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
বাংলাদেশেও ভাইরাল হেপাটাইটিস একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার, একবার ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ ব্যবহার, নিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সবার সম্মিলিত উদ্যোগে ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সঠিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে একটি হেপাটাইটিসমুক্ত, সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের মূল বার্তা- প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে হেপাটাইটিসকে পরাজিত করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: চ্যানেল ২৪