আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এএসআই প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আনেস আলীকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ৩টার দিকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই আনেস আলীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংবাদ প্রকাশের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে এএসআই আনেস আলী সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িতে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সান্তাহার নতুন বাজার এলাকায় এক নারীর বাসায় অবাধ যাতায়াতের সময় তাকে হাতেনাতে আটকের ঘটনাও ঘটেছিল। তবে পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একটি কক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি গোপন রাখার জন্য স্থানীয় কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।
এ ছাড়া ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে গোপনে সুবিধা নেওয়া এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে অর্থের বিনিময়ে তাদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের কারণে এলাকায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে প্রত্যাহার করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

তবে এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এএসআই আনেস আলীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button