দিবস
প্রধান খবর

আজ বিশ্ব বাবা দিবস, স্মরণ হোক বাবার ত্যাগ ও ভালোবাসা

সংসারে প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা যেন এক বিশাল বটবৃক্ষের মতো। যার ছায়ায় থাকে নিরাপত্তা, ভালোবাসা, সাহস আর নির্ভরতার অনুভূতি। শাসন, স্নেহ ও ত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হলেন বাবা। ভাষা, দেশ কিংবা সংস্কৃতি ভেদে বাবাকে ডাকার শব্দ বদলাতে পারে, কিন্তু সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা এবং বাবার প্রতি সন্তানের টান কখনো বদলায় না।

প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। বাবাদের অবদান, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়। এ বছরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজন ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি।

বর্তমানে বাবা দিবসে বাবার সঙ্গে সময় কাটানো, উপহার দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করা একটি সাধারণ রীতি হয়ে উঠেছে। তবে এই দিবসটির ইতিহাস অনেকের কাছেই অজানা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরের একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালন করা হয়েছিল। তবে দিবসটিকে জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী।

মা হারানোর পর ডড ও তাঁর ভাইবোনদের একাই বড় করে তুলেছিলেন তাঁর বাবা উইলিয়াম স্মার্ট। বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই ডডের মনে প্রশ্ন জাগে-মায়ের জন্য যদি ‘মা দিবস’ থাকতে পারে, তবে বাবার জন্য কেন কোনো বিশেষ দিন থাকবে না? সেই ভাবনা থেকেই তিনি ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেন।

এরপর ধীরে ধীরে দিবসটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাবা দিবসকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এই উদ্যোগকে সমর্থন দেন। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই এই দিনটি পালন করা হয়ে আসছে।

সন্তানের জীবনে বাবার ভূমিকা অনন্য। নিজের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া ও কষ্ট আড়াল করে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেই তিনি ব্যস্ত থাকেন। তাই বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ।

এই বিভাগের অন্য খবর

এছাড়াও দেখুন
Close
Back to top button