
শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন মুমিনুল হক। সকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের সুইংয়ে তৈরি হওয়া চাপও দারুণভাবে সামাল দেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি, তবে এর মধ্যেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও ধীরে ধীরে হাত খুলেছেন মুমিনুল। তানজিদ হাসান তামিমের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শামার জোসেফের ঘণ্টায় ১৪৬-১৪৭ কিলোমিটার গতির বাউন্সার ও ভেতরে ঢোকা বলগুলো ভালোভাবেই সামলেছেন তিনি। জাইডেন সিলসের সুইংও মোকাবিলা করেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। ইনিংসের শুরুর দিকে রান তোলার চেয়ে উইকেট আগলে রাখাতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন মুমিনুল।
রস্টন চেজ আক্রমণে আসার পর অবশ্য রান তোলার গতি বাড়ান তিনি। দশম ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরে একটু খাটো লেন্থের বলে দারুণ কাট শটে পয়েন্টের পাশ দিয়ে মারেন প্রথম চার। পরের ওভারগুলোতেও স্পিনের বিপক্ষে কখনো সুইপ, কখনো ফাঁকা জায়গায় বল ঠেলে রান বের করেছেন। চেজের বলে সুইপে চার মারার পাশাপাশি এক ওভারে দুটি দুই রানও নেন।
এভাবেই ইনিংসের পথে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেন মুমিনুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন বর্তমানে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নাঈম ইসলাম ও খুলনা বিভাগীয় দলের বর্তমান প্রধান কোচ তুষার ইমরান।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক তুষার ইমরান। ১৮২ ম্যাচে ৩২টি সেঞ্চুরি ও ৬৩টি ফিফটিতে তাঁর সংগ্রহ ১১ হাজার ৯৭২ রান। নাঈম ইসলাম ১৮৪ ম্যাচে ৩৪টি সেঞ্চুরিতে করেছেন ১১ হাজার ২৫০ রান। আর ১৬৯ ম্যাচে ২৯টি সেঞ্চুরিতে মুমিনুলের রান দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৭।
ব্যাটিংয়ে নামার আগে মাইলফলকটি স্পর্শ করতে মুমিনুলের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১১ রান। ১৩তম ওভারে রস্টন চেজকে সুইপ করে দুই রান নিতেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে যান তিনি।
ইনিংসের মধ্যে পেসার জাস্টিন গ্রিভসের বিপক্ষেও ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন মুমিনুল। টানা দুই মেডেন ওভারে আটকে থাকলেও উইকেট দেননি। কখনো বল ছেড়েছেন, কখনো খেলেছেন দারুণ ডিফেন্স। ২১ ওভার শেষে ৪৯ বলে ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
তবে পরের ওভারেই অহেতুক উইকেট হারান মুমিনুল। জোমেল ওয়ারিকানের মিডল ও অফ স্টাম্প বরাবর ভাসিয়ে দেওয়া বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো সংযোগ ঘটাতে পারেননি। ফলে মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে।



