
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে নরওয়ে। তবে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
৪৩তম মিনিটে সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন বদলি ডিফেন্ডার মার্কুস পেদারসেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ভাইকিংরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শুরু হয় হলান্ডের শো। ৪৮তম মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন।
তবে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি সেনেগাল। ৫৩তম মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান ইসমাইলা সার।
কিন্তু ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি নরওয়ে। ৫৮তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে দারুণ এক ভলিতে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন হলান্ড। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই একাধিক গোল করা ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি।
এছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল হলান্ডের টানা ১২তম ম্যাচে গোল করার কীর্তি।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯৩ মিনিটে) নিজের দ্বিতীয় গোল করে সেনেগালকে কিছুটা আশা দেখান ইসমাইলা সার। তবে শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফেরা হয়নি আফ্রিকান প্রতিনিধিদের।
৩-২ গোলের গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে গ্রুপ ‘আই’ থেকে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। একই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের অন্য নকআউট নিশ্চিত করা দল ফ্রান্স। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে সেনেগাল।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল নরওয়ে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের নায়ক হয়ে থাকলেন আর্লিং হলান্ড।