
ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণেও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ সবসময়ই বাড়তি উত্তাপ ছড়ায়। আর সেটি যদি হয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, তাহলে উত্তেজনা পৌঁছে যায় অন্য উচ্চতায়।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় জর্জিয়ার আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই পরাশক্তি। লক্ষ্য একটাই-ফাইনালের টিকিট।
গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠতে চায়। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ?
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি খেলছেন দুর্দান্ত ছন্দে। এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে।
অনেকের মতে, এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তাই সতীর্থরা আরেকবার তার হাতে ট্রফি তুলে দিতে মরিয়া।
ইংল্যান্ডের আশা কেইন-বেলিংহ্যাম
ইংল্যান্ডকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম। এই দুজন মিলে ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো জুটির সর্বোচ্চ গোলসংখ্যার রেকর্ড।
বেলিংহ্যাম টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে ১৯৮৬ সালের পর দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।
মাঝমাঠের লড়াই হতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক
রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারে।
অন্যদিকে ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, বেলিংহ্যাম ও অ্যান্থনি গর্ডনের সমন্বয়ে ইংল্যান্ডও গড়ে তুলেছে ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড।
দুই দলের শক্তি-দুর্বলতা
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। তবে রক্ষণে কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ড সেই দুর্বলতার সুযোগও নিয়েছিল।
ইংল্যান্ডের বড় শক্তি তাদের মানসিক দৃঢ়তা। কোচ টমাস টুখেলের অধীনে নকআউট পর্বে একাধিক কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছে দলটি। তবে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে মাঝে মাঝে অনিশ্চিত দেখিয়েছে এবং টানা কঠিন ম্যাচের ধকলও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্ভাব্য কৌশল
স্কালোনি প্রয়োজন অনুযায়ী ৪-৪-২, ৪-১-৩-২ কিংবা ৩-৫-২ ফরমেশনে যেতে পারেন। লাউতারো মার্তিনেজ বা হুলিয়ান আলভারেজকে সামনে রেখে মেসিকে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে টুখেল ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই আস্থা রাখতে পারেন। তাদের মূল পরিকল্পনা থাকবে মেসিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়া।
কঠিন পথ পেরিয়ে সেমিফাইনাল
গ্রুপ পর্বে দাপট দেখালেও নকআউটে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ড! সবাই তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
ইংল্যান্ডের পথও সহজ ছিল না। ঘানার সঙ্গে ড্র, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রকে অল্প ব্যবধানে হারানো, ১০ জন নিয়ে মেক্সিকোকে পরাজিত করা এবং নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয়- সব মিলিয়ে কঠিন পথ পেরিয়েই শেষ চারে এসেছে তারা।
ফাইনালের লড়াই
এই ম্যাচের বিজয়ী ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেনের, যারা প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা লড়াই নিশ্চিত করেছে।
এখন প্রশ্ন একটাই- মেসির স্বপ্ন কি আরও এক ধাপ এগোবে, নাকি ইংল্যান্ড ৬০ বছরের অপেক্ষা ভেঙে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে?