ফুটবল
প্রধান খবর

হালান্ডের জোড়া গোলে সিটির জয়, এমবাপ্পে-ভালভের্দের গোলে ইন্টারকে হারাল রিয়াল

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে জয় দিয়ে শুভসূচনা করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে পর্তুগিজ ক্লাব পোর্তোর মাঠে গিয়ে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়ে এসেছে সিটিজেনরা। আর দলের এই জয়ের মূল নায়ক বরাবরের মতোই আর্লিং হালান্ড।

পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ এক দশকের সফল অধ্যায় শেষে নতুন মৌসুমে সিটিজেনদের দায়িত্ব নেওয়া মারেসকার জন্য শুরুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব পড়তে দেননি শিষ্যরা। প্রথমার্ধে পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা একাধিক দারুণ সেভ করে হালান্ডকে আটকে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর রক্ষা পাননি।

বিরতির ঠিক পরপরই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার হেডে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আর্লিং হালান্ড। পিছিয়ে পড়ে পোর্তো সমতায় ফিরতে মরিয়া আক্রমণ চালালেও সিটির রক্ষণ এবং গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার সতর্কতায় তা গোলরেখা অতিক্রম করতে পারেনি।

এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার সব আশা কার্যত শেষ করে দেন হালান্ড। এবার রায়ান আইত নুরির বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ঠান্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের ২-০ ব্যবধানের জয় সুনিশ্চিত করেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৫৯ ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫৯টিতে। একই সঙ্গে সিটির ইতিহাসে ১৬৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে হালান্ড বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি। এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে, না হলে হঠাৎ করে চাপ চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’

ইন্টারকে হারিয়ে রিয়ালের শুভসূচনা

অন্যদিকে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ভরপুর ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্ট ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুভসূচনা করেছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। রোমাঞ্চকর এই জয়ে অবদান রাখেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেদে ভালভের্দে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে ইন্টার মিলান। কিন্তু ৩ ও ১১তম মিনিটে ইন্টারের পরপর দুটি আক্রমণ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে রিয়ালকে বিপদমুক্ত রাখেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

ইন্টারের শুরুর সেই চাপ কাটিয়ে ম্যাচের ১৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিয়ালকে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো পাস ধরে চমৎকার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি এমবাপ্পের ৭১তম গোল, যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসের পাশে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এলেন তিনি।

এর ৯ মিনিট পর ইন্টার গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজের মারাত্মক এক ভুলের ফায়দা তোলেন ফেদে ভালভের্দে। সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে মার্তিনেজ মুহূর্তের জন্য দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লে ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নেন রিয়ালের উরুগুয়ান মিডফিল্ডার ভালভের্দে। এরপর আলতো টোকায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দমে যায়নি ইন্টার। ম্যাচের ৬০ শতাংশেরও বেশি সময় বল দখলে রেখে তারা রিয়ালের গোলমুখে মোট ২১টি শট নেয়, যার ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। তবে পুরো ম্যাচজুড়েই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিয়াল গোলরক্ষক কোর্তোয়া।

অন্যদিকে প্রথমার্ধের ভুল ভুলে ইন্টার গোলরক্ষক মার্তিনেজও রিয়ালের একাধিক নিশ্চিত গোল রুখে দেন।

অবশেষে ৭৭তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত কাটব্যাক থেকে জোরাল শটে গোল করে ব্যবধান কমান ইন্টারের কার্লোস আউগুস্তো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ৮৯তম মিনিটে মিখিতারিয়ানের শট গোলমুখে দিক পাল্টালেও আবারও অবিশ্বাস্য সেভ করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন কোর্তোয়া।

শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের কষ্টার্জিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মরিনিয়োর শিষ্যরা। লা লিগায় আগের ম্যাচে হেরে ব্যাকফুটে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ এই জয়ে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করল।

অন্যদিকে গত শনিবার সিরি আয় নাপোলির বিপক্ষে দুই গোল খেয়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছিল ইন্টার মিলান। এবারও দারুণ পারফর্ম করলেও প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতে পারল না তারা। পেল মৌসুমে প্রথম হারের তেতো স্বাদ।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button