বাংলাদেশ
প্রধান খবর

বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর: গ্রেপ্তার ৪৫, কারাগারে পাঠানোর আদেশ

আগারগাঁওয়ে এনইআইআর চালু নিয়ে ক্ষোভ, প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪৫ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা

কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৮), সৈয়দ আহমেদ শুভ (২৬), মো. শাহজাহান (৩২), অপূর্ব ইসলাম (২২), শরিফুল ইসলাম নিলয় (১৯), মো. জাহিদ হাসান হৃদয় (২৫), মো. শাহেদ ভূঁইয়া (২০), বুলবুল আহমেদ (২৬), দীপক হাজরা (২৬), মো. মান্না হোসেন (২৫), ইয়াছিন আরাফাত অর্ণব (২৫), মো. আশরাফ উদ্দিন (৩০), মো. শাহ জালাল (২৮), মো. শাহিন (২১), মো. নাইম (২১), সাইদুর রহমান (১৯), ইমতিয়াজ আহমেদ হৃদয় (২১), মো. রমজান (১৯), মো. সাব্বির হোসেন (২৪), মো. শাহিন (২৬), মো. তরিকুল ইসলাম রিফাত (১৯), মো. মঈন হোসেন রাজন (২২), মো. অনিক হোসেন (২৭), মো. তরিকুল ইসলাম (২৪), মো. রিফাত হোসেন (২৩), মো. হানিফ মিয়া (২৫), মো. শাহাদাৎ হোসেন রাব্বি (৩২), মো. সোহানুল হক (২৪), মো. তারেক আজিজ (২৮), মো. সাজ্জাদ ইসলাম (১৯), মো. শিপন (২৩), মো. এজাজ হোসেন সিয়াম (২৪), মো. উনায়েস ইমরান (২৪), মো. মনিব আক্তার (২৫), মো. হারিজ (২৮), মো. সাব্বির হোসেন বিজয় (২২), এস এম মতিউর রহমান (৪৮), মো. রাজন শেখ (৩১), মো. আবু সাদিক রাকিব (২৯), মো. মামুন ব্যাপারী (২৪), মো. মজিবুর রহমান (৩২), মো. সালাহ উদ্দিন ব্যাপারী (৪০), মো. আমিনুল ইসলাম নাঈম (২৫), মো. রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩) ও মো. আব্দুল্লাহ সবুজ (৩১)।

বিটিআরসি ভবনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার এক তরুণকে পুলিশি পাহারায় আদালতে নেওয়া হয়
ছবি: সংগৃহীত

আদালতে শুনানি ও পুলিশের আবেদন

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল জানান, শুক্রবার দুপুর দুইটার পর আসামিদের আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং বিকেল তিনটার পর তাঁদের আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ক্ষতিসাধনের কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঠিক নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মদদদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। তদন্ত অব্যাহত থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে। জামিনে মুক্তি পেলে তাঁরা পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পটভূমি

এর আগে বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন বিটিআরসির আইন ও লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। এসব দাবির বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান একাধিকবার বৈঠকও করেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ জনসহ পলাতক আরও ৯ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন ১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে স্লোগান দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ভবনের দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি করেন। এছাড়া ভবনের সামনে থাকা বিটিআরসির ৫১ আসনের একটি স্টাফ বাস ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button