
সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেম করা কি সত্যিই কঠিন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আলোচনা প্রায়ই দেখা যায়। কেউ বলেন, সাংবাদিকরা সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষ। আবার কেউ মনে করেন, তারা সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও যত্নশীল সঙ্গী হতে পারেন। তাই তরুণদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেম করা লাভ, নাকি ক্ষতি?
সাংবাদিকতার পেশায় নির্দিষ্ট সময় বলে কিছু থাকে না। কখন কোথায় যেতে হবে, কখন ব্রেকিং নিউজ আসবে- তা আগে থেকে বলা যায় না। রাত জেগে কাজ, হঠাৎ অ্যাসাইনমেন্ট, ছুটির দিনেও মাঠে ছুটে যাওয়া- এসবই তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্য সময় বের করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও ফোন বা ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণে সম্পর্কের মধ্যে অভিমান, অভিযোগ কিংবা দূরত্ব তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
তবে এই পেশার মানুষদের ইতিবাচক দিকও কম নয়। সাংবাদিকরা সাধারণত বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল এবং মানুষের অনুভূতি বোঝেন। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখার কারণে তারা সম্পর্কের মূল্যও অনেক গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকরা ব্যস্ত হলেও ভালোবাসায় আন্তরিক হন।
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণী জানান, সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্কে গেলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য ও বোঝাপড়া। কারণ তাদের জীবনযাপন অন্য অনেক পেশার তুলনায় বেশি অনিশ্চিত ও চাপপূর্ণ।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও যোগাযোগ। পেশা কোনো সম্পর্কের সফলতা বা ব্যর্থতার একমাত্র কারণ হতে পারে না।
এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মজার মন্তব্য করেছেন বগুড়া লাইভের সম্পাদক ও বিজয় টেলিভিশনের বগুড়া প্রতিনিধি তানজিজুল ইসলাম স্মরণ। তিনি লিখেছেন, সাংবাদিক প্রেমিক বা প্রেমিকা থাকলে আগে নিউজ, পরে রোমান্স! তবে তারা ব্যস্ত হলেও ভালোবাসাটা সত্যি হয়।”
তার মতে, সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেম করা লাভ না ক্ষতি এর নির্দিষ্ট উত্তর নেই। তবে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ধৈর্য, বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন একটু বেশি।
