বাংলাদেশ
প্রধান খবর

পুশইন ইস্যুতে ভারতকে ১২-১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশে ভারতের কথিত পুশইনের চেষ্টার বিষয়ে দিল্লিকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের যখন কোনো নাগরিক অবৈধভাবে অন্য দেশে যায়, তখন নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে ফেরত আনার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। বাংলাদেশ যেমন সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, ভারতও করে।”

তবে ওই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পুশইনের মাধ্যমে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন শামা ওবায়েদ।

তিনি বলেন, “সেই মেকানিজম অনুসরণ না করে পুশইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে দিল্লিকে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই এসব চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, সীমান্তে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সজাগ আছে এবং কোনোভাবেই আমরা এটি অ্যালাউ করছি না।”

বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নাগরিকদের প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, “বাংলাদেশে যদি কোনো ভারতীয় অবৈধভাবে অবস্থান করেন বা ভারতে কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে থাকেন, তাহলে তাদের ফেরত পাঠানোর একটি স্বীকৃত ব্যবস্থা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বাংলাদেশও সেটিই করছে। আমরা সব ধরনের কূটনৈতিক নীতিমালা অনুসরণ করছি।”

পুশইনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে যদি পুশইনের মতো ঘটনা চলতে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হবে না।”

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button