
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এ প্রকল্পের সঙ্গে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল, ২৪টি জেলার ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। জনস্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ উপকার পাবে।”
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ-এর কারণে ব্যাপক খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পদ্মার সঙ্গে সংযুক্ত অনেক নদী শুকিয়ে গেছে এবং লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে এটিকে মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প বলা হচ্ছে। এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী সমাবেশে এ অঙ্গীকার করেছিলেন।”
জানা গেছে, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। পরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


