ইউরোপ যেতে চায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ’র পরিবার

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গাদের নেতা মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে আশ্রয় নিতে চাচ্ছেন বলে গুঞ্জন চলছে।
রোববার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার আবেদনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও কুতুপালং ক্যাম্প থেকে মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত।
রোহিঙ্গাদের একটি সূত্র দাবি করেছে, নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মুহিবুল্লাহর পরিবার, তার ছোটভাই হাবিব উল্লাহর পরিবার ও ভাগনে রশিদ উল্লাহসহ ১২ জন বাংলাদেশ ছাড়তে চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তারা ৩টি দেশের নাম উল্লেখ করে দুই ধাপে দুটি বিদেশি সংস্থা ও একটি দেশের প্রধান বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রবাসী একজন রোহিঙ্গা নেতা জানান, ইউরোপের একটি দেশের পক্ষ থেকে মুহিবুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আপত্তি না থাকলে তারা নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন মুহিবুল্লাহর পরিবার যেতে রাজি হলে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে যেতে ব্যবস্থা করবে।
তবে এ বিষয়ে মুহিবুল্লাহর পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে মুহিবুল্লাহর ভাগনে এবং এআরএসপিএইচের মুখপাত্র রশিদুল্লাহ বলেন, ‘মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনরা খুব ভয়ের মধ্য রয়েছেন। এছাড়া আমাদের সংগঠনের কিছু সদস্যর পরিবার ভয়ভীতির মধ্যে দিন পার করছেন। ফলে আমরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দুই দফায় ১১ পরিবার থার্ড কান্ট্রি যেতে চেয়ে ত্রাণ শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করেছি। তার মধ্য আমরা তিন দেশের কথা উল্লেখ করেছি। এসব দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ইতোমধ্যে আমাদের ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা ক্যাম্প থেকে ভালো আছি।’
মুহিবুল্লাহর পরিবারের বিদেশে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। তবে মামলার তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে মুহিবুল্লাহর পরিবারসহ কয়েকজনকে ক্যাম্পের বাইরে একটি সেন্টারে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সেখানে তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে মুহিবুল্লাহর পরিবার কোনো আবেদন করেনি। তাছাড়া বিষয়টি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। তবে যদি তারা কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যেতে চায় সেক্ষেত্রে সেই দেশের সঙ্গে সব প্রক্রিয়া শেষে কাগজপত্রগুলো পররাষ্ট্র দপ্তরে থেকে আমাদের কাছে আসবে। তারপরই বলা সম্ভব, তারা অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন কিনা।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রোহিঙ্গাদের নেতা ও আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ। পরের দিন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ইলিয়াস নামের একজন রোহিঙ্গা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
