আবারও বাড়ছে পানি, বন্যার আশঙ্কা

সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও বাড়ছে পানি। উজান থেকে আসা ঢলে সুরমা নদীর পানি বেড়ে কানাইঘাটে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরও অন্তত ১০ দিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ অবস্থায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে জেলার কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পানি উঠেছে। পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে বাঁধের সংস্কারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নদ-নদীতে বাড়ছে পাহাড়ি ঢলের পানি। যার ফলে ফের বন্যার আতঙ্কে দিন পার করছেন উপজেলার বাসিন্দারা। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি ছিল এ উপজেলায়। বন্যার পানি গেলেও সেই ভয়াবহতা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি উপজেলাবাসী। এর মাঝেই আবার পাহাড়ি ঢাল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের নিম্নাঞ্চল।
স্থানীয়রা জানান, আগের বন্যার পানি নেমে যাওয়ার দুই সপ্তাহ হয়নি। পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের অনেক জায়গায় পানি রয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার নতুন করে পানি বাড়া শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা কাজ করছে। বন্যার কারণে বেকার হওয়া শ্রমজীবীদের অনেকে এখনো ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে পারেননি। তাদের সংকটটা বেশি। অনেকে কাজে ফিরতে পারেননি। এর মধ্যে গত দুইদিনে পানি বেড়ে কানাইঘাট বাজার এলাকার কিছু কিছু জায়গা ডুবেছে।
অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত তিন দিনে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সবকটি নদীর পানি দুই-তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। নদ-নদী ছাড়াও হাওর এবং লোকালয়ে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। মে মাসের শেষ দিকে প্রায় এক সপ্তাহ স্থায়ী বন্যায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সেই বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার আরেক দফা বন্যার আশঙ্কা মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি ঢলের ফলে উপজেলায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ সকল এলাকায় জনসাধারণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
সিলেটের নদীগুলোতে পানি বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা। তিনি বলেন, “সিলেটে সব পয়েন্টে নদীর পানি বাড়ছে। কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীর পানিও বাড়া-কমার মধ্যে আছে।”
নিলয় পাশা আরও বলেন, “সিলেটে বৃষ্টিপাত হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। তবে এ বৃষ্টিপাতে বন্যা হওয়ার কথা নয়। মূলত পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পাহাড়ি ঢল না কমলে বন্যার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।”
আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাজ ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিগত বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো সংস্কারে আমরা হাত দিয়েছি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় পানি বাড়ায় আমাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হবে। আপাতত দিনে কম, রাতে বেশি বৃষ্টি হবে। তবে ১২ জুন রাত থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে। এর পর থেকে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাও বৃষ্টিপাত বেশি হবে। বরাক অববাহিকায়ও বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।”