বগুড়ায় বিএনপি নেতার চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ, অস্বীকার জামায়াতের

বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হামলায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ডান চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ‘বগুড়া-৪’ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। তবে বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জামায়াতে ইসলামী।
সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, সোমবার রাতের দিকে নন্দীগ্রামের পানশুন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে যান বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তিনি বলেন, ওই বাড়ি থেকে শালথা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের একজনকে আটক করা হয় এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জামায়াতের স্থানীয় আরও নেতাকর্মী ও একই আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরা সেখানে এসে হামলা চালায়।
হামলায় শালথা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে দাবি করেন মোশাররফ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় মাসুদ রানার ডান চোখ উপড়ে ফেলা হয়, আটককৃত দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী ড. মুস্তফা ফয়সাল পারভেজ। তিনি বিএনপির আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, হামলার সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। বরং তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ করেন।
এদিকে, ছেলের চোখ উপড়ে ফেলার খবর শুনে মঙ্গলবার দুপুরে স্ট্রোক করে মারা গেছেন মাসুদ রানার মা মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: যমুনা টিভি



