
নিজস্ব প্রতিবেদক: যমুনার তীরে অবশেষে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বহু প্রত্যাশিত সারিয়াকান্দি নদীবন্দর। কাগজে-কলমে বন্দরের ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পর এবার কালিতলা নৌঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পল্টুন পৌঁছেছে। পল্টুনে অঙ্কিত হয়েছে ‘সারিয়াকান্দি নৌবন্দর’।
দীর্ঘদিনের দাবি ও নানা প্রক্রিয়ার পর নদীবন্দরের প্রথম দৃশ্যমান অবকাঠামো দেখে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গ বন্দর চালু হলে যমুনাকেন্দ্রিক নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে নতুন গতি আসবে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনটকে নদীবন্দর ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের তালিকায় যুক্ত হয় যমুনাতীরের এ দুই এলাকা। বর্তমানে নদীবন্দর বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্থান পরিদর্শনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিআইডব্লিউটিএ। ২০২৫ সালে সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ কমিটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর সারিয়াকান্দিতে নদীবন্দর স্থাপনের উপযোগিতা রয়েছে বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এরপর কালিতলা এলাকায় বন্দরের প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়।
এবার কালিতলা ঘাটে পল্টুন পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে সেই কার্যক্রম দৃশ্যমান রূপ পেয়েছে। যমুনার তীরে পল্টুনে ‘সারিয়াকান্দি নৌবন্দর’ লেখা দেখে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন আশা।
সরকারের গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় যমুনাতীরবর্তী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া, কালিতলা, জামথল, মথুরাপাড়া, মূলবাড়ী, শোনপচা ও চন্দনবাইশা নৌঘাট। এসব ঘাট ও সংশ্লিষ্ট নৌপথকে কেন্দ্র করেই বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে স্থলভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নৌপথ উন্নয়ন, জেটি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিআইডব্লিউটিএকে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
একই প্রক্রিয়ায় ধুনট নদীবন্দরও গেজেটভুক্ত হয়েছে। এর আওতায় চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট নৌঘাট ও খাল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে যমুনার দুই তীর ঘিরে বগুড়ার এ অঞ্চলে নৌযোগাযোগের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, “যমুনার তীরবর্তী সারিয়াকান্দিতে দীর্ঘদিন ধরেই নৌযান চলাচল ও নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। নদীবন্দর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে। উন্নত ঘাট, জেটি ও যাত্রীসেবা চালু হলে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনও সহজ হবে।”
চর এলাকার ধান-চাল ব্যবসায়ী মোঃ মতিউর রহমান বলেন, “সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌযোগাযোগ আরও ভালো হলে চরের উৎপাদিত ধান-চালসহ বিভিন্ন পণ্য সহজে আনা-নেওয়া করা যাবে। এতে পরিবহন খরচ কমবে, ব্যবসা বাড়বে এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসবে।”
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে যমুনার বিভিন্ন নৌরুটে নিয়মিত ও পরিকল্পিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, ধান-চালসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন সহজ হবে। বাড়বে নদীপাড়ের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ; গতি পাবে স্থানীয় অর্থনীতিও।



