আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় জমির খাজনা জালিয়াতির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে জমির খাজনার কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন সান্তাহার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন।

এ ঘটনায় পুলিশ জমির মালিক মনসুর আলম বাবুকে (১৭ জুন) মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে। মনসুর আলম বাবু সান্তাহার নতুন বাজারের নুরুল ইসলামের ছেলে। অপর দুই আসামি হলেন—উপজেলার মালশন গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সাদেকুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সান্তাহার রথবাড়ীর মকবুল হোসেনের ছেলে আজমল হোসেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার নতুন বাজারের মনসুর আলম বাবুর দেড় শতক জমির ভুমি উন্নয়ন কর (খাজনা) সান্তাহার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীন বশিপুর মৌজায় অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার অনুমোদন ছাড়াই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অনলাইনে জাল ভুমি উন্নয়ন কর দাখিলা প্রস্তুত করা হয়।

গত ২৫ সালের ২৮ মে খাজনা পরিশোধের জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবেদনটি বাতিল করেন এবং তখন থেকে ওই হোল্ডিংয়ের খাজনা পরিশোধ বন্ধ থাকে।

এরপর ১৪ জুন গভীর রাতে অনলাইনে নতুন করে খাজনা পরিশোধ দেখিয়ে একটি দাখিলা তৈরি করা হয়, যেখানে ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরের খাজনা পরিশোধ দেখানো হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের তথ্য না থাকায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ১৫ জুন সকাল ১০টার দিকে আজমল হোসেন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে গেলে যাচাই-বাছাইয়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় সান্তাহার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এসএম ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে জমির মালিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জাল খাজনা দাখিলা তৈরি করে জমির মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করছে। তারা আরও দাবি করেন, এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিও জড়িত থাকতে পারে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, “মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে যে, জমির মালিককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button