
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশিষ্ট কবি, সম্পাদক, সাহিত্য সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জয়ন্ত কুমার দেব (চন্দন) আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার বাসিন্দা জয়ন্ত দেব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘনিষ্ঠজনরা জানান, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। একই দিন দুপুরে তার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সেই অপেক্ষা পরিণত হয় গভীর শোকে।
জয়ন্ত কুমার দেবের মৃত্যুতে বগুড়ার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাকে স্মরণ করছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যসাধক ও তরুণ লেখকদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন তিনি। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি দেশের সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন।
তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি। এর মধ্যে ‘করতোয়ার জল ছুঁয়ে বেড়ে উঠে বেহুলার ছেলে’ পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়। দীর্ঘদিন তিনি লিটল ম্যাগাজিন ‘দ্যুতি’ সম্পাদনা করেন। পাশাপাশি দৈনিক উত্তরের খবর, আলো প্রতিদিন ও উত্তরের দর্পণ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও তার ছিল নিবিড় সম্পৃক্ততা। তিনি পাঠকপণ্য পাঠশালার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বগুড়া শব্দ কথন সাহিত্য আসর, জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়া জেলা শাখা ও বগুড়া লেখক চক্রের কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত কলাম লেখা, সাহিত্য আড্ডা ও পাঠচক্রে অংশ নিতেন।
জয়ন্ত কুমার দেব বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার স্বর্গীয় নগেন্দ্রনাথ দেবের পুত্র। তিনি স্ত্রী ছায়া দেব, কন্যা পংক্তি দেব ও পুত্র কাব্য দেবসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে বগুড়া শব্দ কথন সাহিত্য আসর, জাতীয় কবিতা মঞ্চ বগুড়া জেলা শাখা, সংশপ্তক থিয়েটার, প্রকাশ শৈলীসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।
সাহিত্য সংগঠক এইচ আলিম বলেন, “জয়ন্ত দা শুধু একজন কবি বা সম্পাদক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের সাহিত্যচর্চার প্রেরণার উৎস। তার চলে যাওয়া বগুড়ার সাহিত্যাঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার কর্ম ও স্মৃতি দীর্ঘদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।”