প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের মামলায় জামিন পেলেন সাংবাদিক রেজাওয়ানুর ইসলাম

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজাওয়ানুর ইসলাম।
রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সদর আমলি আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানজিম আল মেজবা।
তিনি জানান, দুপুরে জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রেজাওয়ানুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ জুন রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল গাজীপুরের গাছা এলাকার বোর্ডবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জেরে গত ১৫ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দ্য নিউ নেশন পত্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিনিধি তানভীর আলম রিমন মামলা দায়ের করেন।
মামলায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজাওয়ানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার, বগুড়া প্রতিনিধি মো. শামস এবং জেলা প্রতিনিধি সাব্বির হাসানকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
তবে শুক্রবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তার নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, কারণ এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে তার কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই।
বিবৃতিতে তিনি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর সাংবাদিকদের ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির আশা ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ হওয়ায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সমাজে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।