
নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হাজতখানার বাথরুমে লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসামির নাম আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০)। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহত আব্দুল মান্নানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানান, গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর তিনি ও আরও দুই সহযোগী যাত্রী সেজে একটি অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরে সারিয়াকান্দির দড়িপাড়া কৈখালী এলাকায় চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা (৪৫)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ বিলে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে নওগাঁয় যাওয়ার পথে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, রোববার আদালতে হাজির করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানোর প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বাইরে না আসায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিকে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকালের নাশতা শেষ করে আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। এরপর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে বাথরুমে প্রবেশ করেন। পরে বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।