
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পুনরুদ্ধার করে লা রোজা।
পুরো ম্যাচেই বলের দখল, আক্রমণ ও সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে শুরু থেকেই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি আর্জেন্টিনাকে।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে স্পেন। বক্সের ডান দিক থেকে লামিন ইয়ামালের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিছুক্ষণ পর ইয়ামালের নিচু ক্রসও নিরাপদে সংগ্রহ করেন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
শুরুর দিকে প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল স্পেনের। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ইউরোপিয়ানরা।
৩৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের শক্তিশালী শট সহজেই রুখে দেন মার্তিনেজ।
৪০তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। স্পেনের একটি প্রতিআক্রমণ ফাউল করে থামানোর দায়ে তাকে সতর্ক করেন রেফারি।
এরপর মার্ক কুকুরেয়ার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৪৪তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি।
গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকো গঞ্জালেসের বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে মাঠে নামার ছয় মিনিটের মধ্যেই মিকেল ওইয়ারসাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস।
এরপর দানি অলমোর আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া আরেকটি বিপজ্জনক সুযোগ শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন গনজালো মন্তিয়েল।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে স্পেন কোচ বদলি হিসেবে নামান মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে। দানি অলমো ও অ্যালেক্স বায়েনা মাঠ ছাড়েন।
এরপর পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা। তবে এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রির সংঘর্ষের পর অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখেন এনজো।
পরে পাউ কুবারসির সঙ্গে সংঘর্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এনজো ফার্নান্দেজকে। শেষদিকে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
এরপর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় স্পেন। লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত শট আবারও রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে মিকেল মেরিনোর শট ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে বল পাঠালেও মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এর কিছুক্ষণ পর মেরিনো আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ফাঁকায় পাওয়া হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
অবশেষে ১০৬তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাম দিক থেকে নিকো উইলিয়ামসের ভাসানো বল মাঠের ভেতরে ধরে রাখেন তিনি নিজেই। এরপর ফাঁকায় থাকা ফেররান তোরেস বল পেয়ে জোরালো শটে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে। সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্পেন শিবির।
১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ আসরের শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন।