আদমদিঘী উপজেলাবগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ায় বরাদ্দ পেয়েও জানে না মিলার

নির্ধারিত সময়ের পর ২০০ টন চাল সরবরাহ

রিপন দাস, বগুড়াঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সান্তাহার কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) চাল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য এক মিলারের মাধ্যমে ২০০ টন চাল সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমনকি চাল সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে বগুড়া জেলা খাদ্য দপ্তর থেকে মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের নামে ২০০ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সান্তাহার সিএসডিতে চাল সরবরাহের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম দফায় তিনটি ট্রাকে করে চাল সান্তাহার সিএসডিতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের নামে বরাদ্দ থাকলেও এসব চাল সরবরাহ করেন মতিউর রহমান স্বপন নামে অন্য এক মিলার। চালগুলো জয়পুরহাট জেলার একটি হাট থেকে সান্তাহারে আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে মেসার্স ইছামতি এগ্রো ফুডসের এক প্রতিনিধি দাবি করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে ২০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্যই তারা জানেন না। ফলে তাদের নামে বরাদ্দ করা চাল অন্য একজন মিলারের মাধ্যমে কীভাবে সরবরাহ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু তাই নয়, চাল সিএসডিতে সরবরাহের আগেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক মিল মালিকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

একাধিক মিল মালিকের অভিযোগ, মতিউর রহমান স্বপন দীর্ঘদিন ধরে অন্য মিলারের নামে বরাদ্দ পাওয়া চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে স্বপন নিজেই চাল সরবরাহ করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। এতে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত মিলাররা বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সখ্যের সুযোগ নিয়ে মতিউর রহমান স্বপন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি প্রতি সপ্তাহেই অন্যের নামে বরাদ্দ করা চাল সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে মতিউর রহমান স্বপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, ‘সরাসরি গিয়ে কথা বলছি।’ পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “ইছামতি এগ্রো ফুডসের বরাদ্দের চাল স্বপন সরবরাহ করছেন।” তবে চালগুলো জয়পুরহাটের হাট থেকে আনা হয়েছে, এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই।”

ইছামতি এগ্রো ফুডস তাদের নামে বরাদ্দের বিষয়টি জানে না, এমন তথ্য জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম কায়ছার আলী বলেন, এ ধরনের কার্যক্রমের কোনো সুযোগ নেই। যার নামে বরাদ্দ, তাকেই চাল সরবরাহ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চাল সরবরাহের আগে বিল উত্তোলনেরও কোনো নিয়ম নেই।

চাল সরবরাহ, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে অন্য মিলারের মাধ্যমে চাল দেওয়ার অভিযোগ এবং আগাম বিল উত্তোলনের বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button