বগুড়ায় পৃথক অভিযানে পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি রাজু ও এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত রবিউল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার পলাতক আসামি মো: রাজু ইসলাম (২৭) এবং মাদক মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো: রবিউল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে সিপিএসসি বগুড়ার এসআরবি-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা ও বগুড়া সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানান, রাজু ইসলাম বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কর্নিপাড়া (আগাবরগাছা) এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহারে জানাগেছে, ভুক্তভোগী ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি রাজু ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবন চলাকালে রাজু বিভিন্ন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করেন। এর জেরে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৬ জুন তাঁকে তালাকের কাগজ পাঠানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করার সময় রাজু কৌশলে ভুক্তভোগীর কিছু অশ্লীল ছবি ও ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন। তালাকের পর ভুক্তভোগীর কাছে থাকা কিছু কাগজপত্র নিয়ে অভিযোগ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। এসব কাগজপত্র ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাঁর কাছে থাকা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজু তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ভুক্তভোগীও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের মুঠোফোনে ওই ছবি ও ভিডিও পাঠান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা ১১ অক্টোবর মামলা করেন।
মামলার তিনদিন পর সিপিএসসি ও এসআরবি-১২-এর সদস্যরা আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ান। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, রাজু সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকোরিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে দক্ষিণ আটকোরিয়া এলাকায় জহুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার রাজু ওই এলাকার বাবলু মিয়া ও শেফালী বেগমের ছেলে।
অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে মাদক মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. রবিউল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে একই আভিযানিক দল।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলাম একটি মাদক মামলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত রবিউল গ্রেপ্তার এড়াতে বগুড়া মহানগরের ঝোপগাড়ি ওলির বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন।
পরে বুধবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে ওলির বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিউল ইসলাম বগুড়া সদর উপজেলার ছোট কুমিড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে।
সিপিএসসি ও এসআরবি-১২-এর স্কোয়াড্রন লীডার ও কোম্পানী কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ জানান, পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



