বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার আশিকের মরদেহ পৌঁছাল বাড়িতে

১৩ দিন পর গ্রামের বাড়িতে লাশ, স্ত্রী-সন্তানকে রেখে চিরবিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ ১৩ দিন পর তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে মরদেহ পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রিয়জনের নিথর দেহ বাড়িতে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।

নিহত শাহেদ আহমেদ আশিক শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুর ছেলে। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে গত ৯ অক্টোবর সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন আশিক। তাঁর কর্মস্থল ছিল জেদ্দায়। রিয়াদ হয়ে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে কর্মস্থলে ফেরার সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।

গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন আশিক। এ সময় তিনি রিয়াদে পৌঁছানোর কথা জানান এবং জেদ্দায় পৌঁছে আবার ফোন করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে আশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন স্বজনেরা।

আশিকের আকস্মিক মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তান। তাঁর দুই ছেলের বয়স ১১ ও ৬ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বামীর শোকে দিশেহারা কাকলী বেগম এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আশিকের বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে কর্মরত। তাঁর মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশিকের মরদেহ পৌঁছায়। সেখান থেকে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে বগুড়ার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর আড়াইটার দিকে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে ভিড় করেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এদিকে, বাড়ির উঠানে আশিকের দাদার কবরের পাশে তাঁর দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত করা হয়। পরে বিকাল ৫টায় স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।

আশিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছিল। ১৩ দিন পর তাঁর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের শোক আরও গভীর হয়ে ওঠে। স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে বিদেশে পাড়ি জমানো আশিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button