বগুড়া জেলা
প্রধান খবর

বগুড়ার ৫৭ শতাংশ জিপিএ-৫ একাই পেল সরকারি আজিজুল হক কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সার্বিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে বগুড়া জেলাতেও। বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জেলাজুড়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী।

তবে ফলাফলের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ৫৭ শতাংশই এসেছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে।
এককভাবে কলেজটি অর্জন করেছে ৭৪৭টি জিপিএ-৫।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সার্বিক ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার অর্ধেকের নিচে নেমে এলেও বগুড়া শহরের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফলাফল ধরে রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে।

জেলায় শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হলেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

এ ছাড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২০ জন পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন। বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬৫৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

অন্যদিকে বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন।

তবে জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ফলাফল আরও হতাশাজনক। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৯৭৮ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।

এদিকে জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

সার্বিক ফলাফল বিপর্যয় ও মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, সার্বিকভাবে বোর্ডের ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে।

এই বিভাগের অন্য খবর

Back to top button